গণপরিবহনে আবার ভাড়া বৃদ্ধির চাপ

এ নৈরাজ্যের কি কোনো অবসান নেই

  সম্পাদকীয়

২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:৫২ | অনলাইন সংস্করণ

আমাদের গণপরিবহন কখনই জনবান্ধব ছিল না, যেনতেনভাবে মালিক-শ্রমিকদের আয় বাড়ানোই এ সেক্টরের মূল উদ্দেশ্য। বাসের বাইরে ট্যাক্সি, সিএনজি অটোরিকশাও যাত্রীদের জিম্মি করে গলাকাটা ভাড়া আদায় করছে। আমাদের সময়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিবহন নেতাদের ফাঁদে পা দিয়ে এখন বেকায়দায় বিআরটিএ।

গণপরিবহনের বিষয়ে সার্বিক সুপারিশ বাস্তবায়নে আয়োজিত কমিটির বৈঠকে তারা হুমকি দিয়েছে, বিআরটিসিসহ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় বিশেষ বাস নেটওয়ার্কের উদ্যোগ নিলে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে। গাড়ি সচল রাখতে নেতাদের পরামর্শে ভাড়া নির্ধারণের জন্য চাপ দেওয়া হয় বিআরটিএ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক বৈঠকে। এর ফলে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে গঠিত কমিটির সদস্যদের সুপারিশ অনেকটাই বিফলে যাচ্ছে।

স্বাধীনতার পর যে প্রতিষ্ঠানটির হাত ধরে আন্তঃজেলা বাস সার্ভিস চালু হয়েছিল, সেই বিআরটিসি আজ বেহাল। বেসরকারি বাস মালিকদের চাপ, নীতিনির্ধারকদের নীতিবহির্ভূত সিদ্ধান্তের পাশাপাশি একটি চিহ্নিত চক্র বিআরটিসিকে গ্রাস করতে চলেছে। রাজধানীর পরিবহনব্যবস্থা চলে গেছে বেসরকারি পরিবহন মালিকদের হাতে। তাদের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ কম। অথচ তাদের ইচ্ছায় চলছে রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থা। আমরা মনে করি এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য নগর পরিবহনের মূল নিয়ন্ত্রণ বিআরটিসির হাতে থাকা উচিত। বিআরটিসি সঙ্কুচিত হচ্ছে।

একশ্রেণির মালিক-সিন্ডিকেটের হাতে সরকার ও জনসাধারণও জিম্মি। তারা চাচ্ছে পরিবহন খাতের নৈরাজ্য টিকিয়ে রেখে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে। তাদের হাতে আর কতদিন যাত্রীসাধারণ জিম্মি হয়ে থাকবে? কথায় কথায় ভাড়া বৃদ্ধি এ নৈরাজ্যের কি কোনো অবসান নেই?

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে