পল্লী বিদ্যুতে স্থবিরতার আশঙ্কা

উত্তরণে কার্যকর পদক্ষেপ নিন

  অনলাইন ডেস্ক

২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সারা বছরই বিদ্যুৎ সংক্রান্ত নানা সমস্যা নিয়ে লেখালেখি হয়। এর মধ্যে একটি বিষয় হচ্ছে লোকসান। এ খাতে কোনোভাবেই লোকসান পিছু ছাড়ছে না। দেশে গ্রাহকদের যেসব প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে এর মধ্যে একটি বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বিআরইবি)। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি পাইকারি পর্যায়ে বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনে গ্রাহকদের কাছে কম দামে বিক্রি করায় হুমকির মধ্যে পড়েছে। ধারাবাহিক লোকসানের কারণে সংস্থাটির কার্যক্রমে স্থবিরতার আশঙ্কা দেথা দিয়েছে, প্রশ্ন হচ্ছেÑ এ খাতে কি সংকট কাটবে না?

বিদ্যুৎ বিভাগসূত্রে জানা যায়, দেশের মোট দুই কোটি ৪০ লাখ বিদ্যুৎ গ্রাহকের মধ্যে দুই কোটিকে (৮০ শতাংশ) একাই বিদ্যুৎ দিচ্ছে বিআরইবি। বাকি ৪০ লাখ গ্রাহককে বিদ্যুৎ দেয় পাঁচটি বিতরণ সংস্থা। তবে ক্রয়ের তুলনায় গ্রাহকপর্যায়ে বিদ্যুতের দাম কম হওয়ায় চরম লোকসানের মধ্যে আছে এ সংস্থাটি। প্রতিইউনিটে লোকসান হচ্ছে দুই টাকা ১৬ পয়সা। শুধু দুই অর্থবছরে নিট ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় এক হাজার ৩৯১ কোটি টাকা। অন্য সব সেবা খাতের মতোই বিদ্যুতের দাম বেড়ে চলেছে। নানা অজুহাতে বাড়ানো হচ্ছে বিদ্যুতের দাম। আর গ্রাহকরা বাধ্য হয়েই পরিশোধ করছে বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য। প্রশ্ন হচ্ছেÑ এর পরও বিদ্যুৎ খাতে সরকারের এ লোকসান কেন? বিদ্যুৎ বিক্রি করলে লোকসান বাড়েÑ এ ধারণা থেকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা করে লোডশেডিং করছে। কিন্তু কোনোভাবেই এটি সমাধানের পথ নয়। সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি। তা না হলে অব্যাহত লোকসানে মুখ থুবড়ে পড়বে বিআরইবি।

বিদ্যুতে লোকসান কমাতে সরকার বিভিন্ন সময় বিদ্যুতের দাম বাড়ায়। কিন্তু লোকসান কমেনি। এ ছাড়া পল্লী বিদ্যুতের এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ বন্ধ রেখে সিস্টেমলস কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। অথচ বিশেষজ্ঞরা বলছেন বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে নয়, বরং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের মাধ্যমেই লোকসান কমিয়ে আনা সম্ভব। সেই সঙ্গে বন্ধ করতে হবে এ খাতে অনিয়ম, লুটপাট, চুরি। এ জন্য সরকারকে আরও কঠোর হতে হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে