ঐন্দ্রজালিক মায়ায় জীবনানন্দ

  অ নু হো সে ন

১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নিজের আঁকা বিজনপৃথিবীর অধরা এক মায়ার ভেতরে ডুবে ছিলেন জীবনানন্দ সমগ্রজীবন। মায়াটাও জেগেছিল তার একলা পৃথিবীর অনির্ণেয় রূপের আকর্ষণে। অনির্ণেয় বলেই ডুবে-থাকা মায়ার জগৎ এ আত্মভোলা-নিভৃতচারী-নির্জনতাপ্রিয় কবির কাছে আমৃত্যু অধরাই থেকে গেছে। নিদারুণ মায়ায় আঁকা বাংলা প্রাণ ও প্রকৃতির ছবিগুলিই তার চেতনায় কাব্যরূপ পেয়েছে নতুন কুহকের জাল বিস্তার করে। তিনি নিখিলবিশ্ব নিয়ে এক আশ্চর্য ইন্দ্রজালে ডুবে ছিলেন, কবিতায় সেই ঐন্দ্রজালিক বীজই ঘন ঘন বুনে গেছেন। তার কবিতা পাঠে এ জন্যই পাঠকহৃদয়ে সহস্রধারায় ঐন্দ্রজালিক মমতার বিস্তার ঘটতে দেখা যায়। জীবনের আনন্দ যোগে জীবনানন্দ। জীবনানন্দের মতো নিয়ত ব্যতিক্রমী কবির কাছে এই আনন্দবোধ সাধারণ উচ্ছ্বাসের নয়, তার আনন্দগুলো স্ফুলিঙ্গের মতো উৎক্ষিত হয় বিরূপতা-বিষণœতা-বিজনতার আবেশ ছড়িয়ে।

জীবনানন্দের জীবনটাই কবির জীবন, ব্যক্তিগত জীবনকে এই কবির জীবন থেকে আলাদা করে শনাক্ত করতে গেলে শেষ পর্যন্ত জীবননদীর জলে ওই শতবিভোর কবির জীবনই ভেসে উঠবে। একান্ত ব্যক্তিগত অধ্যায়গুলোও তার বাইরে না। ১৯৩০ সালের ঘটনা। বিয়ের প্রথম বাসরে স্ত্রী লাবণ্য দাশের কাছে তার একান্ত চাওয়া ছিল রবীন্দ্রনাথের পূজা পর্বের এক গানÑ ‘জীবনমরণের সীমানা ছাড়ায়ে বন্ধু হে আমার রয়েছ দাঁড়ায়ে।’ লাবণ্য দাশ কবির একান্ত আবদার অনুযায়ী একবার নয়, পরপর দুবার শুনিয়েছিলেন পরম বন্ধুর নিবেদনে জীবনমরণের সীমানা ছাড়ানো এই মায়াজড়ানো গানটি। গানটি শুনিয়ে লাবণ্য দাশ কৌতূহল নিয়ে কবির কাছে জানতে চেয়েছিলেন তিনি কেন বিয়ের প্রথম রাতেই জীবনমরণের সীমানা ছাড়ানো গানটি শুনতে চেয়েছিলেন? পতœীর প্রতি জীবনানন্দের প্রথম অনুরোধ ও অনুরোধ রক্ষাত্তোর লাবণ্য দাশের কৌতূহলী জিজ্ঞাসার ভেতর জীবনানন্দ চেতনার মূল প্রেরণাটি লেগে আছে আষ্টেপৃষ্ঠে। কবির কাছে স্ত্রী হিসেবে লাবণ্য দাশ এমন এক বন্ধু, যিনি পার্থিব নিয়মনীতির সীমারেখা ভেদ করে অপার্থিব মমতার স্থায়ী সঙ্গী হয়ে থাকবেন। কবির অভিপ্রায় এমনই। গানটির পটভূমি রাতেরÑ ‘নীরব নিশি তব চরণ নিছায়ে আঁধার-কেশভার দিয়েছে বিছায়ে।’ শেষ দুই লাইনÑ ‘ভুবন মিলে যায় সুরের রণনে, গানের বেদনায় যাই যে হারায়ে।’ সুরের রণন আর গানের বেদনামাখা দীর্ঘস্থায়ী অনুধ্যানের ভেতর কবি তাঁর সত্তাকে মেলে ধরতে চেয়েছেন লাবণ্যের কণ্ঠে গাওয়া এই গানে। একান্ত সান্নিধ্যের সময়েও তার অনুধ্যানী হৃদয়ে ‘স্বপ্ন নয়, শান্তি নয়, কোনো এক বোধ কাজ করে মাথার ভিতরে’ [‘বোধ’, ধূসর পা-ুলিপি]।

জীবনানন্দ ব্যতিক্রম বোধের এক মানুষ ছিলেন বলে সমকালে অনেকেই তাকে দেখেছেন বিরূপ মনে। ননী ভৌমিক বলেছেন, ‘জীবন ও সমাজের... অস্বীকৃতির আর-একটি মুখোশ হলেন জীবনানন্দ।’ সজনীকান্তরা তো আরও নেতিবাচক ছিলেন তার সম্পর্কে। তাতে কী? নতুন কাজে নতুন বোধে প্রথাগতদের স্বাগত জানানোর হৃদয় কই! তাদের বিরূপ সমালোচনায় জীবনানন্দের অভিনব সৃষ্টির উন্মীলন থেমে থাকেনি কখনো। এসব বিদ্বেষ প্রতিভাকে না বোঝার বিদ্বেষ, সমাজসংলগ্ন অসূয়াকাতর কতিপয় মানুষের অগ্রহণশীল সংকীর্ণ মনোবৃত্তির প্রকাশ। খুব বেশিকাল বজায় ছিল এসব অসূয়াবোধ, এমন নয়। ‘শনিবারের চিঠি’তে বিদ্রƒপকারী সজনীকান্ত দাসই বলেছিলেন, ‘কবি জীবনানন্দের কাব্যের প্রতি আমরা যৌবনে যথেষ্ট বিদ্রƒপতা করিয়াছি; তাঁহার দুর্বোধ্যতাকে ব্যঙ্গ করিয়া বহু পঙ্ক্তি উদ্ধৃত করিয়া তাঁহাকে হাস্যাস্পদ করিবার চেষ্টা করিতেও ছাড়ি নাই।... এ কথা আজ স্বীকার কর্তব্য মনে করিতেছি যে, রবীন্দ্রোত্তর কাব্যসাহিত্যের তিনি অন্যতম গৌরব ছিলেন। তিনি অকপটে সুদৃঢ় নিষ্ঠার সহিত কাব্যসরস্বতীর সেবা করিয়া গিয়াছেন।’ [‘জীবনানন্দের সঙ্গে’, গোপালচন্দ্র রায়] অবশ্যি সজনীকান্তের কলমে জীবনানন্দের কবিস্বীকৃতির এই নিরঙ্কুশ ঘোষণা জীবনানন্দের আর জানা হয়নি। কারণ এই স্বীকৃতি ছিল মৃত্যুউত্তর।

জীবনানন্দ নিজেও জানতেন তার কবিতা সবার বোধের উপযোগী নয়। কিছুটা কুয়াশাচ্ছন্ন। নলিনী দাশ কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমএ ক্লাসের বিদ্যার্থী। তিনি বুদ্ধদেব বসুর ‘কবিতা’ পত্রিকার প্রথম নারী গ্রাহক ছিলেন। জীবনানন্দ দাশের ছোট বোন সুচরিতা দাশের সহপাঠিনী ছিলেন তিনি। ‘মেয়েদের কথা’ নামে নলিনী দাশরা কজন মিলে একটি পত্রিকা করতেন। সেখানে মেয়েদের বিশেষ আগ্রহের বিষয় ছাড়াও গল্প-কবিতা-প্রবন্ধ ইত্যাদি ছাপা হতো। নলিনী দাশ ১৯৩৯ সালের দিকে ‘মেয়েদের কথা’র জন্য জীবনানন্দের কাছে কবিতা চেয়ে চিঠি লিখেছিলেন। জীবনানন্দ কবিতা দেননি। তিনি কারণ হিসেবে জানিয়েছিলেন, তার কবিতা কুয়াশাচ্ছন্ন, যা ওই পত্রিকার পাঠিকাদের ভালো লাগবে না। কবি হিসেবে জীবনানন্দের এই সচেতনতাই প্রমাণ করে তিনি আত্মভোলা হলেও আত্মবিশ্বাসে তার কিছুমাত্র ঘাটতি ছিল না।

জীবনানন্দ তার সমকালে আলাদা ছিলেন এ কথা তিনি নিজেও অকপটে স্বীকার করেছেন, একবারে পরিষ্কার করেই বললেন, ‘আমার মতন কেউ নাই আর’। সমকালসতীর্থ বুদ্ধদেব বসু তার এই স্বগতোক্তিতে ‘প্রায় আক্ষরিক অর্থেই সত্য’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন। তার কবিতার সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম সৌন্দর্য, রহস্যময়তা ঘেরা স্পর্শগন্ধময় ইন্দ্রিয়চেতন জগতের অভূতপূর্ব প্রকাশভঙ্গি সংবেদনাগ্রাহী পাঠককে ম্যাজিকের মতো টেনে নিয়ে যায় অচেনা এক পরিবেশে। কাব্যপাঠে মুহূর্তেই সৃষ্টি করে অনুধ্যানী গভীর আচ্ছন্নতা। বুদ্ধদেব বসুও জীবনানন্দের কবিতাপাঠে আশ্চর্য আচ্ছন্নতার কথা বর্ণনা করেছেন, ‘যেন অন্য এক জগতে প্রবেশ করলামÑ এক সান্ধ্য, ধূসর, আলো-ছায়ার অদ্ভুত সম্পাতে রহস্যময়, স্পর্শগন্ধময়, অতি সূক্ষ্ম-ইন্দ্রিয়চেতন জগৎÑ যেখানে পতঙ্গের নিঃশ্বাসপতনের শব্দটুকুও শোনা যায়, মাছের পাখনার ক্ষীণতম স্পন্দনে কল্পনার গভীর জল আন্দোলিত হয়ে ওঠে। এই চরিত্রবান নতুন কবিকে অভিনন্দন জানিয়ে ধন্য হলাম আমরা।’ অমিয় চক্রবর্তীও তার কবিতা পাঠের পরম আনন্দ লাভের কথা ব্যক্ত করেছেন, ‘যখনই জীবনানন্দের কোনো কবিতা পড়েছি মনে হয়েছে স্নিগ্ধ রোদ্দুরে আপ্লুত, স্মরণ-প্রান্তরে কোনো চেনা দিন ফিরে এসেছে, কোনোদিনই সেইদিনের মাধুর্য অবসান হবে না’। [‘পত্রাংশ’, অমিয় চক্রবর্তী]

জীবনানন্দ দাশ কবিতা রচনায় সংস্কৃতঘেঁষা শব্দরাজি অনেকটাই এড়িয়ে গেছেন। দেশজ শব্দের প্রতি, কথ্যভঙ্গির প্রতি, এমনকি গাওগেরামের অতিসাধারণ মানুষের কণ্ঠে ব্যবহার্য কথ্য বুলিও তিনি কবিতার পঙ্ক্তিতে স্থান দিয়েছেন। আবেদন সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনে তিনি বিদেশি শব্দকে নির্বিচারে জায়গা দিয়েছেন কবিতায়। শব্দযোজনায় প্রচলিত বাংলা কাব্যরীতি ও প্রতিষ্ঠিত কারুকলার ভেতর আটকে থাকেননি মোটেও। ক্রিয়াপদে সাধু-চলিত-কথ্য, বিশেষ্যে নতুন নতুন শব্দ, বিশেষণে মুগ্ধকর ছবি তার কবিতায় ভিন্ন স্বাদের মাত্রা দিয়ে গেছে সব সময়। এসব ভিন্নতার কারণে তার কবিতার চিত্রকল্পগুলোর ব্যঞ্জনা সাদা চোখে অনেক সময় ধরা পড়ে না। বুদ্ধদেব বসু বলেছেন, ‘তাঁর ছন্দ ও শব্দযোজনা, উপমা ইত্যাদিকে চট করে ভালো কী মন্দ বলা যায় নাÑ তবে অদ্ভুত স্বচ্ছন্দ বলা যায়। তাঁর প্রধান বিশেষত্ব আমরা এই লক্ষ করি যে সংস্কৃত শব্দ যতদূর সম্ভব এড়িয়ে চলে শুধু দেশজ শব্দ ব্যবহার করেই তিনি কবিতা রচনা করতে চাচ্ছেন।’

রবীন্দ্রনাথ জীবনানন্দের কবিতায় দেখেছিলেন ‘নিজস্ব ংড়ঁষ’। অনেকেই খাঁটি জাতকবি বলে তার সহজাত স্বভাবের আত্মভোলা দিকটিও শনাক্ত করেছেন। কেউ বলেছেন তার কবিতা চিত্রকল্পময়, অনেকেই তা সমর্থন করে গেছেন। অনেকে আবার তার ব্যক্তিবৈশিষ্ট্যকে চিহ্নিত করেছিলেন অমিশুক-রাশভারি অন্তর্গত উদাসীন স্বভাবের মানুষ হিসেবে। এ প্রসঙ্গে শান্তিপ্রিয় চট্টোপাধ্যায়ের মন্তব্যটিই জীবনানন্দ-স্বভাবের সত্যকে সর্বদিক থেকে মেলে ধরেছে, ‘জীবনানন্দবাবু ছিলেন সলজ্জ; অবগুণ্ঠিত ছিল তাঁর আত্মপ্রকাশ। অত্যন্ত অন্তরঙ্গ হয়ে উঠতে পেরেছিলেন যাঁরা, তাঁদের কাছেই কেবল তিনি ছিলেন উন্মুখর, অধিকাংশের কাছে তিনি মিতবাক, স্থিতধী।’ [‘স্মৃতিচিত্র’, শান্তিপ্রিয় চট্টোপাধ্যায়]। জীবনানন্দ সারা জীবন তার কাব্যধ্যান ও বইয়ের দিকে চোখ রেখেই সময় পার করেছেন। অন্য দশজনের মতো তিনি সর্বত্র উচ্চকিত ব্যক্তিতা নিয়ে দাঁড়াননি। তার ব্যক্তিতাকে প্রকৃত অর্থে বুঝতে পারেন এমন নির্বাচিত টিউনড ব্যক্তিদের সঙ্গেই জীবনানন্দ অন্তরঙ্গ হতে পেরেছিলেন সর্বচিত্তে। বহুমুখী সৃষ্টিশীলদের মধ্যে এ ক্ষেত্রে বুদ্ধদেব বসু অগ্রগণ্য। তার ব্যক্তিস্বভাবের বাইরেও বুদ্ধদেব বসু বিভিন্ন কোণ থেকে জীবনানন্দের কাব্যচরিত্রের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করেছেন, ‘কী উপমায়, কী বিশেষণে, একটি ইন্দ্রিয়ে আঘাত দিয়ে অন্য ইন্দ্রিয় জাগিয়ে তোলেন তিনিÑ ‘ঘাসের ঘ্রাণ হরিৎ মদের মতো পান’ করতে হলে বর্ণ, গন্ধ আর আস্বাদকে পরস্পরের মধ্যে মিশিয়ে দিতে হয়; ‘বলীয়ান রৌদ্র’ বললে রোদ যেমন আয়তন পেয়ে ঋজু হয়ে দাঁড়িয়ে ওঠে, আবার সেই রোদকে ‘কচি লেবু পাতার মতো’ নরম আর সবুজ বললে তাকে দেখা যায় তখনো-শিশির-শুকিয়ে-না-যাওয়া মাটির উপর সুগন্ধী হয়ে শুয়ে থাকতে।

বুদ্ধদেব বসু জীবনানন্দের কবিতায় ব্যবহৃত ভাষাবৈশিষ্ট্যের যথাযথ মূল্যায়ন করেছেন, ‘শুধু বিশেষণে নয়, বিশেষ্য পদেও, আর সাধারণ ভাষা ব্যবহারেও তাঁর দুঃসাহসী আক্রমণ বারে-বারেই রতœ ছিনিয়ে নিয়েছে। বিদেশি শব্দ, গেঁয়ো শব্দ, কথ্য বুলি, অপ্রচলিত শব্দ, আর যে-সব শব্দকে আশাহীনরূপে গদ্য বলে আমরা জেনেছিÑ এইসব ভা-ারের উপর সহজ অধিকার তাঁর কাব্যের একটি প্রধান লক্ষণ।’ [‘জীবনানন্দ দাশের কবিতা’, বুদ্ধদেব বসু]।

জীবনানন্দ কাব্যবোধ সম্পর্কে নিজেই তার বিচার করে গেছেন। এমন বাণী তিনি বাংলা কাব্যে সংযোজন করতে চেয়েছিলেন, যা অন্য কারো হাতে হয়নি। এতকাল কবিতায় যে সুরের ধারা চলে এসেছিল তা পুরনো মনে হয়েছে তার কাছে, এ জন্য ‘নতুন-কিছুর আছে প্রয়োজন’ বলে ভেবেছিলেনÑ

কেউ যাহা জানে নাইÑকোনো এক বাণীÑ/ আমি বহে আনি;/একদিন শুনেছ যে সুরÑ/ফুরায়েছেÑপুরোনো তাÑকোনো এক নতুন-কিছুর/আছে প্রয়োজন,/তাই আমি আসিয়াছি, আমার মতন/আর নাই কেউ!

[‘কয়েকটি লাইন’, ধূসর পা-ুলিপি]। বাংলা কবিতায় নতুন সূর্যের আলোকমালা প্রবেশের অর্গলটি মহোৎসবে খুলে দিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ। ছাই থেকে আবার আগুন হয়ে নতুন করে জন্ম নেওয়ার দুর্বার শক্তি জন্মেছিল তার। বারবার নিজেকে নতুন করে দেখার বাসনা ছিল বলেই রবীন্দ্রনাথ প্রবল আত্মপ্রত্যয়ে বলেছিলেনÑ হে নূতন,/হোক তব জাগরণ/ভস্ম হতে দীপ্ত হুতাশন। [‘পঁচিশে বৈশাখ’]

অন্যদিকে নতুন হয়ে ওঠার প্রবল অনুধ্যান জীবনানন্দের ভেতরও জেঁকে বসেছিল। যে পথে অন্যরা গেছেন সে পথে নয়, নতুন সময়ের অথৈ জলে তরি ভাসানোর ব্যাকুলতা জেগেছিল তারÑ

নতুন আকাক্সক্ষা আসেÑচলে আসে নতুন সময়Ñ/পুরোনো সে-নক্ষত্রে দিন শেষ হয়,/নতুনেরা আসিতেছে বলে! [‘নির্জন স্বাক্ষর’, ধূসর পা-ুলিপি]

রবীন্দ্রনাথ-জীবনানন্দÑ দুই কালের দুজনই বাংলা কবিতায় নতুন সৃষ্টির ধ্যানে মগ্ন ছিলেন। রবীন্দ্রনাথের ছিল চিরনতুনের দর্শন আর জীবনানন্দের আচ্ছন্নতা জন্মেছিল মানববোধের নতুন এক পৃথিবী নির্মাণের। দুজনের দেখার চোখ, কণ্ঠের ভাষা, আবেগের ধরন, বোধের স্তর আলাদা আলাদা। আলাদা, কারণ দুজনেই নতুন হতে চেয়েছিলেন। প্রকৃত নতুনরা আলাদাই হন।

জীবনানন্দ এক আশ্চর্য স্ফুলিঙ্গের ধারা বাংলা কবিতায় ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। অপার্থিব কোনো প্রেরণার অগ্নি থেকে তার এই স্ফুলিঙ্গের প্রবাহ উৎক্ষিপ্ত হয়েছিল। অপার্থিব বলেই তার কবিতা ঘিরে বাঙালি পাঠকের হৃদয়ে হৃদয়ে এমন অপ্রতিরোধ্য অজ্ঞাত আকর্ষণ।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে