সরকারি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি পূরণ

জবাবদিহি চায় সরকার

  গোলাম রাব্বানী

১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মূলধন ঘাটতি পূরণের জন্য অর্থের জোগান দিতে সম্মত সরকার। তবে তার আগে সরকারি ব্যাংকগুলোকে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। বাড়াতে হবে খেলাপি ঋণ আদায়। কমিয়ে আনতে হবে ব্যাংকগুলোর এর পরিমাণ। ঋণ বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি এবং ব্যাংক পরিচালনায় সার্বিকভাবে সুশাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ব্যাংকগুলোকে এ বার্তাই দেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, সরকারি খাতের সাতটি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতির পরিমাণ প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা। বাড়তি মূলধন, প্রভিশন সংরক্ষণ ও ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে মূলধন পর্যাপ্ততা বাড়াতে ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে সরকারের কাছে ২০ হাজার কোটি টাকা দাবি করা হয়েছে। এদিকে চলতি অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ রয়েছে মাত্র ২ হাজার কোটি টাকা।

এদিকে ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি পূরণে অর্থের জোগান দিতে গিয়ে গত বছর অর্থছাড়ের সময় যে চারটি শর্ত জুড়ে দিয়েছিল, সেটা কতটুকু পরিপালন করা হয়েছে তা জানতে চেয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। গত বছর জুড়ে দেওয়া শর্তগুলো হলোÑ অর্থ ব্যয়ে প্রচলিত সব আর্থিক বিধি-বিধান এবং অনুশাসন যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। মূলধন পুনর্ভরণ ছাড়া এ অর্থ অন্য কোনো খাতে ব্যবহার করা যাবে না। ব্যাংকটির অটোমেশন ও বিজনেস প্ল্যান বাস্তবায়নের অগ্রগতি, বিশেষ করে পুঞ্জীভূত খেলাপি ঋণের বৃদ্ধি/হ্রাস ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে জানাতে হবে। সর্বশেষ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পর্যালোচনা সভা আয়োজন এবং সভার কার্যবিবরণী অর্থ বিভাগে পাঠাতে হবে।

এ ছাড়া মূলধন পুনর্ভরণ বাবদ অর্থ পাওয়ার পর ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধনের চেয়ে পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ বেশি হলে মেমোরেনডাম অব অ্যাসোসিয়েশন সংশোধন করতে হবে বলে শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়। এ শর্তগুলো পরিপালনের তথ্য ছাড়াও ব্যাংকগুলোর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে ব্যাংকের মূলধন পরিস্থিতি উন্নয়নে তারা কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, কেন মূলধন পরিস্থিতি উন্নতি হয়নি।

ব্যাংকের পর্ষদ ঋণ অনুমোদন করে এবং ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ঋণ বিতরণ করে। ঋণ অনুমোদনের প্রস্তাবও পর্ষদে নিয়ে আসে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। তাহলে ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিতরা কেন ঋণ বিতরণের পর আদায় করতে পারছে না, এ প্রশ্নও তুলেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। ব্যাংকের ভেতরে যেসব দুর্নীতি আছে, সেগুলোর বিরুদ্ধেও কঠোর হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে গত বৃহস্পতিবার অর্থ মন্ত্রণালয় ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। ওই বৈঠকে ব্যাংকগুলোকে এসব দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মূলধন ঘাটতি পূরণে এবং ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে যথেষ্ট মূলধন রাখার জন্য দুটি ব্যাংক সরকারের কাছে বন্ড ছাড়ার গ্যারান্টি চেয়েছে। সরকারের গ্যারান্টিতে বন্ড ছেড়ে ঋণ নিলে ব্যাংক কোনো কারণে তা পরিশোধ করতে না পারলে এর দায় পরোক্ষভাবে সরকারের ওপরই বর্তাবে এ যুক্তিতে সরকার কোনো বন্ডের গ্যারান্টি দিতে চাচ্ছে না। এ বিষয়ে আরও চিন্তাভাবনা করা হবে বলে বৈঠকে জানানো হয়েছে।

এদিকে গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত আট ব্যাংকের মূলধন ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মূলধন ঘাটতি রয়েছে সোনালী ব্যাংকের, ৩ হাজার ১৪০ কোটি টাকা। গত চার বছরে ব্যাংকটিকে মূলধন হিসেবে সরকার ৩ হাজার ৫ কোটি টাকা জোগান দিয়েছে। সর্বশেষ গত অর্থবছরে দেওয়া হয়েছে ৩০০ কোটি টাকা। তার পরও ঘাটতি পূরণ হচ্ছে না। খেলাপি ঋণ বাড়ার কারণে তাদের ঘাটতি বেড়েই চলেছে।

বেসিক ব্যাংকের ঘাটতি ২ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা। গত তিন বছরে সরকার ব্যাংকটিকে মূলধন হিসেবে ৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এখন তারা বন্ড ছেড়ে মূলধন ঘাটতি মেটাতে চাচ্ছে।

জনতা ব্যাংক গত তিন বছরে নিয়েছে ৮১৪ কোটি টাকা। তার পরও ব্যাংকের ঘাটতি ১ হাজার ২৭৩ কোটি টাকা। রূপালী ব্যাংক তিন বছরে নিয়েছে ৩১০ কোটি টাকা। তার পরও এদের মূলধন ঘাটতি ৬৯০ কোটি টাকা। সরকার মালিকানাধীন বিশেষায়িত কৃষি ব্যাংকের ঘাটতি ৭ হাজার ৫৪০ কোটি ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) ঘাটতি ৭৪২ কোটি টাকা। এ দুই ব্যাংকের জন্য সরকার জোগান দিয়েছে হাজার কোটি টাকা। অনিয়মের পাশাপাশি এ দুই ব্যাংকে কম সুদে ঋণ বিতরণ, ঋণর সুদ মওকুফ করার কারণে ঘাটতির সৃষ্টি হয়েছে। এসব অর্থ সরকার থেকে দেওয়া হচ্ছে না।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে