হতাশ উদ্যোক্তারা

আড়াই বছরেও সংশোধন হয়নি মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা

  আবু আলী

১৫ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রি-ইনভেস্টমেন্টের নামে বিনিয়োগকারীদের ঠকানোর লভ্যাংশ প্রদান পদ্ধতি বন্ধ করতে মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালার সংশোধনের খসড়া চূড়ান্ত হয় আড়াই বছর আগে ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর। একই দিনে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি আইপিও বিধিমালা সংশোধনের খসড়াও অনুমোদন করে। এরপর খসড়ার ওপর জনমত যাচাই শেষে ওই মাসেই তা চূড়ান্ত ও কার্যকর করা হয়। কিন্তু আড়াই বছরেও চূড়ান্ত করেনি মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা। ফলে উদ্যোক্তাদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা দেখা দিয়েছে।

বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কমিশন বিধিমালা সংশোধনের পরিকল্পনা করেছিল। অবশ্য নতুন বিধিমালা কার্যকর হলে কিছু সম্পদ ব্যবস্থাপক কোম্পানির যথেচ্ছ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যেত।

শেয়ারবাজার বিশেষজ্ঞ আবু আহমেদ আমাদের সময়কে বলেন, খসড়া নীতিমালা চূড়ান্ত হলে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে যে নৈরাজ্য চলছে তার অবসান হতো এবং পুনরায় এ খাতে বিনিয়োগে ফিরে আসতেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। খসড়া চূড়ান্ত করতে না পারা বিএসইসির ব্যর্থতা। তিনি আরও বলেন, মিউচুয়াল ফান্ডে কোনোভাবেই স্টক ডিভিডেন্ড দেওয়া উচিত নয়।

এ বিষয়ে বিএসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান আমাদের সময়কে বলেন, খসড়া নীতিমালা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

সূত্র জানিয়েছে, মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালার প্রস্তাবিত সংশোধনের খসড়ায় বলা হয়েছে, কোনো মিউচুয়াল ফান্ড থেকে বিনিয়োগকারীদের কখন লভ্যাংশ হিসেবে রি-ইনভেস্টমেন্ট বা পুনঃবিনিয়োগ দিতে পারবেÑ তা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে। সংশোধনী খসড়ায় বলা হয়েছে, কোনো মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটপ্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভি) ওই ফান্ডের বাজারদরের তুলনায় কম হলে সম্পদ ব্যবস্থাপক কোম্পানি রি-ইনভেস্টমেন্ট আকারে লভ্যাংশ প্রস্তাব করতে পারবে না। এ ছাড়া লভ্যাংশ আকারে রি-ইনভেস্টমেন্ট অনুমোদন হলেও বিনিয়োগকারীকে নগদ লভ্যাংশ বা রি-ইনভেস্টমেন্ট; উভয় পদ্ধতির মধ্যে যে কোনো একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। তা ছাড়া প্রভিশনে ঘাটতি না থাকলে ইনটেরিম বা অন্তর্বর্তীকালীন লভ্যাংশ প্রদানের সুযোগ রাখা হবে।

গত কয়েক বছর একাধিক সম্পদ ব্যবস্থাপক কোম্পানি রি-ইনভেস্টমেন্ট আকারে বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দিচ্ছে। এতে দেখা যায়, ফান্ডগুলোর ইউনিটপ্রতি সম্পদ মূল্যের তুলনায় বাজারদর অর্ধেকেরও কম থাকার পরও রি-ইনভেস্টমেন্ট আকারে লভ্যাংশ দিয়েছে।

বিধিমালার নতুন সংশোধনে ফান্ড পরিচালনায় জবাবদিহি নিশ্চিতের জন্য দুই বছর অন্তর সাধারণ সভা করার বিষয়টি যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়টি আগে ছিল না। বিগত বছরে দেখা গেছে, বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দিতে না পারলেও ব্যবস্থাপক কোম্পানিগুলো নিজেরা ঠিকই ফি নিয়েছে। এ অবস্থা দূর করতে ব্যবস্থাপনা ফি কেটে রাখার ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছিল। বিপরীতে নির্দিষ্ট হারের বেশি লভ্যাংশ দিতে পারলে সম্পদ ব্যবস্থাপক কোম্পানিকে পারফম্যান্স বোনাস দেওয়ারও কথা রয়েছে।

সম্পদ ব্যবস্থাপক কোম্পানির একজন উদ্যোক্তা বলেন, বিধিমালাটি দ্রুত সংশোধন করা প্রয়োজন। খসড়া চূড়ান্ত না হওয়ায় অনেকেই স্টক ডিভিডেন্ড দিচ্ছে। ফলে এ খাতে শৃঙ্খলা ফিরছে না।

এইমস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়াওয়ার সাঈদ বলেন, বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগটি ইতিবাচক ও সময়োপযোগী ছিল। এ খাতের স্বার্থেই রি-ইনভেস্টমেন্টসহ আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সংশোধন আনা জরুরি।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে