১৪ কার্যদিবসে রূপার খুনিদের ফাঁসি

  কেয়া আমান

১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হওয়া টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে কলেজছাত্রী জাকিয়া সুলতানা রূপাকে গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়ে চারজনের ফাঁসি ও একজনের সাত বছরের সশ্রম কারাদÐ দিয়েছেন আদালত। গত সোমবার টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আবুল মনসুর মিয়া এ রায় দেন।

রায়ে ফাঁসির দÐপ্রাপ্তরা হলেনÑ ছোঁয়া পরিবহনের চালক হাবিবুর, সহকারী শামীম, আকরাম ও জাহাঙ্গীর। আর সাত বছরের দÐপ্রাপ্ত আসামি সুপারভাইজার সফল আলী। একই সঙ্গে সুপারভাইজারকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া রূপাকে যে বাসের ভেতর ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়, সেই বাসটির নাম পরিবর্তন করে বাসটির মালিকানা নিহতের পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রায় শুনে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় রূপার বড় ভাই হাফিজুর রহমান বলেন, এ রায়ে আমরা খুশি। এখন রায়টি দ্রæত কার্যকরের দাবি জানাচ্ছি। সরকারসহ সবাইকে ধন্যবাদ জানাই আমাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট দিলরুবা সরমিন বলেন, ‘এ রায় বিচারব্যবস্থায় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তবে আদালতের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি, ধর্ষণ ও হত্যাকাÐে যে বাসটি ব্যবহৃত হয়েছে সেই বাসটি রূপার পরিবারকে দেওয়াটা রূপার পরিবারের জন্য কষ্টের কারণ হতে পারে। রায়ের এ অংশটুকু দুঃজনক। অবশ্য রূপার পরিবার চাইলে রায়ের এ অংশটুকু বিষয়ে উচ্চ আদালতে আবেদন করতে পারে।’

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৫ আগস্ট ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে রূপাকে চলন্ত বাসে পরিবহন শ্রমিকরা গণধর্ষণ ও হত্যা করে লাশটি টাঙ্গাইলের মধুপুরে বনের পাশে ফেলে রাখে। ঘটনার দুদিন পর পত্রিকায় প্রকাশিত ছবি দেখে নিহতের বড় ভাই হাফিজুর রহমান মধুপুর থানায় গিয়ে বোনের লাশ শনাক্ত করেন। গত বছরের ১৫ অক্টোবর এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা টাঙ্গাইলের বিচারিক হাকিম আদালতে পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। গত বছরের অক্টোবরে আদালত এ মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। মামলার অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ, যুক্তিতর্ক ও রায় ঘোষণা পর্যন্ত সময় লেগেছে মাত্র ১৪ কর্মদিবস।

এত দ্রæত সময়ে রায় ঘোষণায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বাংলাদেশে মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম বলেন, ‘রূপা হত্যা মামলার রায়টি ধর্ষকদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। বিচারব্যবস্থা যে আন্তরিক হচ্ছে, এটা অত্যন্ত স্বস্তিকর। তবে সুপারভাইজারের সাত বছর জেল একটু কম মনে হচ্ছে। তা ছাড়া হত্যাকাÐে ব্যবহৃত বাসটি রূপার পরিবারকে দেওয়ার বিষয়টিতে পরিবারটি আসলেই সন্তুষ্ট হতে পারবে কিনা, এটাও একটি বিষয়। যদিও বিচার তার নিজস্ব গতিতেই চলবে। এখন রায়টি দ্রæত কার্যকর হতে হবে। সেই সঙ্গে তনু, মিতুসহ এ ধরনের যেসব ধর্ষণ ও হত্যা মামলা আছে, সেগুলোর সঠিক বিচারের জন্যও আমরা পথ চেয়ে আছি। এ ধরনের অন্য মামলাগুলোও দ্রæত নিষ্পত্তি হলে জঘন্য এই অপরাধ অনেকটাই কমে আসবে বলে আমার মনে হয়।’

বাংলাদেশে মহিলা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ১০৭টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে গণধর্ষণের শিকার হয়েছে ১৩ জন নারী। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে দুজনকে। এ ছাড়া ১১ জনকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। আটকে আছে কুমিল্লার তনু, উইলস লিটল ফাওয়ার স্কুলের ছাত্রী রিশা, সাবেক এসপি বাবুলের স্ত্রী মিতুসহ বেশ কিছু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়। রূপার মতো ধর্ষণ ও হত্যার অন্য মামলাগুলোও দ্রæত নিষ্পত্তি হওয়ার প্রত্যাশা এখন সর্বস্তরের সবার।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে