জাতিগত নিধন বন্ধ ও স্থায়ী সমাধানে পদক্ষেপ নিন

রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ে জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী

  কূটনৈতিক প্রতিবেদক

২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৩:০৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর ও দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার সময় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি তিনি এ আহ্বান জানান। রাখাইনে হত্যা-নির্যাতন বন্ধ, সব নাগরিকের সুরক্ষা ও বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার কথাও বলেন তিনি। এ ছাড়া সেখানে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরাতে সুনির্দিষ্ট পাঁচটি প্রস্তাব উপস্থাপন করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। প্রস্তাবগুলো হলোÑ অনতিবিলম্বে এবং চিরতরে মিয়ানমারে সহিংসতা ও ‘জাতিগত নিধন’ নিঃশর্তে বন্ধ; মিয়ানমারে জাতিসংঘের মহাসচিবের নিজস্ব একটি অনুসন্ধানী দল প্রেরণ; জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সব নাগরিকের নিরাপত্তা বিধান এবং এ লক্ষ্যে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে সুরক্ষা বলয় (ংধভব ুড়হবং) গড়ে তোলা; রাখাইনে জোরপূর্বক বিতাড়িত সব রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে তাদের নিজ ঘরবাড়িতে প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং কফি আনান কমিশনের সুপারিশমালার নিঃশর্ত, পূর্ণ এবং দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।

সাধারণ পরিষদের এ অধিবেশনে বক্তব্য দিতে তিনি চতুর্দশবারের মতো উপস্থিত হয়েছেনÑ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমার হৃদয় আজ দুঃখে ভারাক্রান্ত। কেননা আমার চোখে বারবার ভেসে উঠছে ক্ষুধার্ত, ভীতসন্ত্রস্ত ও নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের মুখচ্ছবি। আমি মাত্র কয়েক দিন আগেই আমার দেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া কয়েক লাখ রোহিঙ্গার সঙ্গে দেখা করে এসেছি, যারা ‘জাতিগত নিধন’-এর শিকার হয়ে আজ নিজ দেশ থেকে বিতাড়িত। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্যমতে, গত তিন সপ্তাহে বাংলাদেশে ৪ লাখ ৩০ হাজার শরণার্থী এসেছে। অথচ জাতিগত নিধনের শিকার এসব রোহিঙ্গা হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে সেখানে বসবাস করে আসছে।

শেখ হাসিনা বলেন, এ মুহূর্তে আমরা নিজ ভূখ- থেকে জোর করে বিতাড়িত ৮ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় ও সুরক্ষা দিয়ে যাচ্ছি। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান নৃশংসতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে অবস্থার ভয়াবহ অবনতি ঘটেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশের হয়ে প্রথমবারের মতো এখানে ভাষণ দেওয়ার সময় এ মঞ্চে দাঁড়িয়ে আমার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শান্তি ও ন্যায়বিচারের পক্ষে তার অঙ্গীকারের কথা বলে গেছেন। সেই ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, এমন এক বিশ্বব্যবস্থা গঠনে বাঙালি জাতি উৎসর্গীকৃত, যে ব্যবস্থায় সব মানুষের শান্তি ও ন্যায়বিচার লাভের আকাক্সক্ষা প্রতিফলিত হবে এবং আমি জানি আমাদের এ প্রতিজ্ঞা গ্রহণের মধ্যে আমাদের লাখ লাখ শহীদের বিদেহী আত্মার স্মৃতি নিহিত রয়েছে।

ভাষণে সব ধরনের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের নিন্দা জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমাদের সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি মেনে চলে। মিয়ানমারের রাখাইনে চলমান সহিংসতা বন্ধে এবং ওই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় উদ্যোগ গ্রহণ করায় নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরাষ্ট্রগুলো ও জাতিসংঘের মহাসচিবকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ ভয়াবহতম গণহত্যার শিকার শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ সম্প্রতি ২৫ মার্চকে ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। মূলত ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতেই ‘অপারেশন সার্চলাইটের’ মাধ্যমে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী এ গণহত্যার সূচনা করে। এই গণহত্যার সঙ্গে জড়িত মূল অভিযুক্তদের আমরা ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচারের মুখোমুখি করেছি। বিশ্বের কোথাও যাতে কখনোই আর এ ধরনের জঘন্য অপরাধ সংঘটিত না হয়, সে জন্য বিশ্বসম্প্রদায়কে সম্মিলিত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, ’৭১-এর গণহত্যাসহ সব ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আমাদের এই লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শেখ হাসিনা বলেন, সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস জঙ্গিবাদ শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে সবচেয়ে বড় হুমকি। সন্ত্রাসীর কোনো ধর্ম, বর্ণ বা গোত্র নেই। নিজে বেশ কয়েকবার সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছি। সে হিসেবে সন্ত্রাসের শিকার মানুষের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেন তিনি। ধর্মের নামে যে কোনো সহিংস জঙ্গিবাদের নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, সহিংস জঙ্গিবাদ বিস্তার রোধে তৃণমূল পর্যায়ে আমরা পরিবার, নারী, যুবসমাজ, গণমাধ্যম এবং ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করেছি। বৈশ্বিক এ সমস্যা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রস্তাব হচ্ছেÑ সন্ত্রাসীদের অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করতে হবে; সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন বন্ধ এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে আন্তর্জাতিক বিবাদ মীমাংসা করতে হবে।

জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নে আশাবাদের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, জাতীয় পর্যায়ে জলবায়ু সংবেদনশীলতার দিকে লক্ষ্য রেখে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় আমরা কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছি। সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার এবং সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে ‘ব্লু ইকোনমি’র সম্ভাবনার প্রতি আমরা আস্থাশীল। বাংলাদেশ বন্যা এবং অন্য দুর্যোগ মোকাবিলায় দৃষ্টান্তমূলক সাফল্য দেখিয়েছে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে আমরা শস্য-নিবিড়করণ প্রযুক্তি এবং বন্যাপ্রতিরোধী ফসলের জাত উদ্ভাবন করেছি। এ বছর বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশে যে ব্যাপক বন্যা আঘাত হেনেছে, আমরা তা সফলভাবে মোকাবিলা করেছি।

মধ্যপ্রাচ্য শান্তিপ্রক্রিয়া ফের শুরুর আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনা ফের শুরু এবং ভ্রাতৃপ্রতিম ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে সব ধরনের বৈষম্য ও শত্রুতা নিরসনের জন্য আমি সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা আশা করি, শান্তি বিনির্মাণে জাতিসংঘের কার্যকর ভূমিকা অব্যাহত থাকবে। এ লক্ষ্যে ‘অব্যাহত শান্তি’র জন্য অর্থায়ন বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছ থেকে আমরা সাহসী এবং উদ্ভাবনমূলক প্রস্তাব প্রত্যাশা করছি। এ সময় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ‘জাতিসংঘ শান্তিবিনির্মাণ তহবিলে’ ১ লাখ মার্কিন ডলার প্রতীকী অনুদান প্রদানের ঘোষণাও করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অন্যতম সেনা ও পুলিশ সদস্য প্রদানকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তি মিশনগুলোর কার্যকারিতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা সমুন্নত রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে। তিনি বলেন, প্রতিটি গ্রামে একটি করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। দেশের ৩৮ হাজার ৩৩১ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল এবং মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হয়েছে। যুবসমাজকে কারিগরি এবং বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রদানে গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করতে চাই, এ বছরের মধ্যেই আমরা প্রথমবারের মতো বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মহাকাশে উৎক্ষেপণ করার পরিকল্পনা নিয়েছি।

রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের মানুষের উদারতা ও মহানুভবতা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের এবারের অধিবেশনে অংশ নিয়ে আমি সাধারণ বিতর্ক পর্ব, ওআইসি কনট্যাক্ট গ্রুপের উচ্চপর্যায়ের সভাসহ সব দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে রোহিঙ্গা সমস্যা তুলে ধরেছি। চার লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ায় বিশ্ব নেতারা আমাদের প্রশংসা করেছেন। স্থান ও সম্পদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বাংলাদেশের জনগণ এসব অসহায় ও নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছেন। তাদের খাদ্য ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের মানুষের এই উদারতা ও মহানুভবতা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে।’ নিউইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগদানসহ সফর নিয়ে ব্রিফ করেন প্রধানমন্ত্রী।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এবারের জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন এমন একটি সময় অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন মিয়ানমারে জাতিগত নিধন অভিযানের ফলে হাজার হাজার নিরীহ বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। এ অধিবেশনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে রোহিঙ্গা সমস্যা তুলে ধরা ও এর সমাধানে বিশ্ববাসীর সহযোগিতা নিশ্চিত করা ছিল আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

তুরস্ক ও ইরানের রাষ্ট্রপতিসহ মুসলিম বিশ্বের বেশ কয়েকজন নেতা ওআইসি কনট্যাক্ট গ্রুপের সভায় বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব দেশ বাংলাদেশকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেয়।

প্রধানমন্ত্রী ২০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন চলাকালে এসডিজি বিষয়ে দুটি উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্ট আয়োজনের কথাও জানান তিনি। একই দিন দুপুরে বিজনেস কাউন্সিল ফর ইন্টারন্যাশনাল আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ের (বিসিআইইউ) উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময়সভায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। এ সভায় অংশ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের তিনি বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিস্থিত এবং সম্ভাবনা বিষয়ে অবহিত করেন। বাংলাদেশে তাদের বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার বিকালে জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে গঠিত পানিবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে সাইড লাইনে আমি বেশকিছু দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছি। জাতিসংঘের মহাসচিবের সঙ্গে গতকাল আমরা দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছি। বৈঠকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি এ সমস্যা রাজনৈতিক সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য আমি মহাসচিবকে অনুরোধ জানিয়েছি। রোহিঙ্গা বিষয়ে তিনি যে উদ্যোগ নিয়েছেন, এ জন্য আমি তাকে ধন্যবাদ জানাই। মিয়ানমারের শিগগিরই ফ্যাক্ট ফাইন্ডং মিশন পাঠানোর অনুরোধ জানাই। এ ছাড়া ভুটানের প্রধানমন্ত্রী, নেদারল্যান্ডসের রানি, এস্তোনিয়া প্রেসিডেন্ট, কসোভোর প্রেসিডেন্ট, নেপালের প্রধানমন্ত্রী, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার মহাপরিচালক, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির নির্বাহী পরিচালক এবং আইবিএমের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আমার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে