• অারও

দুই বোনকে ধরতে পুরস্কারের ঘোষণা করে পাক বাহিনী

  আসাদুর রহমান

১১ ডিসেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০১৭, ০০:২০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আনু-মনুকে ধরিয়ে দিতে পারলে ৫০ হাজার এবং ৩০ ভরি স্বর্ণ পুরস্কার দেওয়া হবে। মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর এ ঘোষণার কথা চোঙায় (হ্যান্ডমাইক) ঘোষণা করে রাজারকাররা। আমরা এ ঘোষণা মাচায় (কাঁচা ঘরে দোতালা) বসে শুনেছি। কথাগুলো বলছিলেন নারী মুক্তিযোদ্ধা এসএম আনোয়ারা বেগম (আনু)। একাত্তরে রণাঙ্গনে যুদ্ধ করা এই সাহসী নারী বর্তমানে বাংলাদেশ কর্মকমশিনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বিজয়ের মাসে আমাদের সময়ের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণকালে তিনি এসব কথা বলেন। দক্ষিণাঞ্চলের এই নারী মুক্তিযোদ্ধা বলেন, সুন্দরবনে মেজর জিয়ার কাছে গেরিলা ট্রেনিং নিয়েছি। কিন্তু প্রথমে আমাদের যুদ্ধে নিতে চাননি। নিরাপদে কোথাও রেখে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমার বোন মনোয়ারা (মনু) এবং আমি বলেছি, দেশের জন্য আমরাও লড়াই করব। মরলে লড়াই করে মরব। পরে আমরা যুদ্ধে অংশ নিই। সুন্দরবন, বাগেরহাটের শরণখোলা, রায়েন্দা, নামাজপুর, তুষখালী ও পটুয়াখালীর বিভিন্ন জায়গায় অপারেশনে অংশ নেন বলে জানান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এ অধ্যাপক।

দুই বোনকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ২৬ মার্চ আক্রমণের পরে আমরা গ্রামে-পাড়ায় গিয়ে সবাইকে সাহস জুগিয়েছি। কীভাবে বাংকার তৈরি করতে হয়, তা শিখেছি। মা-বোনদের ছাই-মরিচের গুঁড়া রাখতে বলতাম। আমরা দুই বোন জুবিলি স্কুলমাঠে সবাইকে নিয়ে বেসামরিক ট্রেনিং নিয়েছি। তখন আমি ও আমার বোন পটুয়াখালী গার্লস হাই স্কুল থেকে মাত্র এসএসসি পাস করেছি। আমার ভাই সরদার আব্দুর রশিদ তখন পটুয়াখালী ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। ১১ এপ্রিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী পটুয়াখালী আক্রমণ করে। তখন মা আমাদের দুই বোনকে নিয়ে গলাচিপার ধানখালীতে আমার বড় বোনের বাড়ি যায়। সেখানেও আমাদের খোঁজে লোক লাগানো হয়। আমরা মাকে রেখে অন্যত্র চলে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বোনের বাড়িতে হামলা চালায় এবং মাকে ধরে নিয়ে যায়। তখন মাইকে ঘোষণা করে, আনু-মনুকে জীবিত কিংবা মৃত ধরে দিতে পারলে ৫০ হাজার টাকা এবং ৩০ ভরি স্বর্ণ পুরস্কার দেওয়া হবে। এ সময় আমাদের আশ্রয় দিতে অনেকেই ভয় পায় এবং আপত্তি জানায়। পরে নিশানবাড়িয়ার সফিউদ্দিন বিশ্বাস নামে এক পীর তার মুরিদ গওহর খান ও ফজলু মাস্টারকে আমাদের আশ্রয় দিতে বলেন।

যুদ্ধকালীন দুঃসময়ের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, গওহর খান ও ফজলু মাস্টার আমাদের বাড়িতে রাখতে সাহস করেননি। আমাদের আগুনমুখা নদীর পাশে জঙ্গলে রেখে আসেন। সেখানে ৩ দিন আমাদের না খেয়ে থাকতে হয়েছে। পানিও পাইনি। সেখানেও রাজাকারদের সহায়তায় আক্রমণ চালায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। এ সময় ৯ নম্বর সেক্টরের অধীন সাব-সেক্টরের মেজর জিয়াউদ্দীনের কাছে খবর পৌঁছেÑ ছাত্রনেতা সরদার রশিদ ও তার দুই বোন আটকা পড়েছে। তখন তিনি আমাদের উদ্ধার করে সুন্দরবনে নিয়ে যান।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে