প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ

রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনে সহায়তার আশ্বাস আইওএমের

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৭ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) সব ধরনের সহায়তা করবে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির মহাপরিচালক উইলিয়াম ল্যাসি সুইং। গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার কার্যালয়ে আইওএমের মহাপরিচালকের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাতের সময় প্রধানমন্ত্রীকে এ আশ্বাস দেন মহাপরিচালক।

পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। ইহসানুল করিম বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যাকে বাংলাদেশের জন্য একটি ভীষণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে বর্ণনা করেছেন সুইং। তিনি বলেন, তারা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিজ বাসভূমে

প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশকে পূর্ণ সহযোগিতা করবে। সম্প্রতি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শনের কথা উল্লেখ করে আইওএম মহাপরিচালক বলেন, তারা সেখানকার স্থানীয় জনগণের সমস্যাগুলোও দেখেছেন। আইওএমসহ অন্যান্য সংস্থার কাজে সহযোগিতা করায় বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসা করেন সংস্থাটির মহাপরিচালক।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য বাংলাদেশের পক্ষে যা যা করা সম্ভব তা করা হবে। তাদের অন্যত্র স্থানান্তর করে উন্নত আবাসন ও অন্য সুবিধা নিশ্চিত করতে কাজ চলছে বলে জানান। তিনি বলেন, বিশেষ করে বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে স্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবিলা এবং শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে।

সাক্ষাৎকালে আইওএমের মহাপরিচালকের সিনিয়র উপদেষ্টা ওয়েন লি এবং সংস্থাটির শরণার্থী সেল ইউনিটের প্রধান পেপি সিদ্দিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আইওএম মহাপরিচালকের পর জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত ক্রিশ্চাইন শ্রেন বার্গনার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন। মিয়ানমার যাতে তার নাগরিকদের ফেরত নেয় সে লক্ষ্যে জাতিসংঘের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গেও বাংলাদেশ আলোচনা করেছে এবং এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সমর্থনের জন্য তিনি ধন্যবাদ জানান।

জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান কমিশন যে সুপারিশ করে তা বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে ইউএন কাজ করছে বলে জানান বিশেষ দূত।

রোহিঙ্গাদের বিষয়ে বাংলাদেশের নেয়া পদক্ষেপে নিজের সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বিশেষ দূত বিশেষ করে আবাসান ও রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষার জন্য নেওয়া পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। ভুক্তভোগীদের সঙ্গে নিজে কথা বলেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের মনে ভয় আছে। ঘর ছেড়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরত পাঠানোই তার প্রধান কাজ বলে জানান তিনি।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে