বিচারকদের আচরণ ও শৃঙ্খলাবিধি গেজেট প্রকাশে সময় পেল সরকার

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১১ ডিসেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অধস্তন আদালতের বিচারকদের আচরণ ও চাকরির শৃঙ্খলাবিধির গেজেট জারি করতে সরকারকে আগামী বুধবার পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। গতকাল রবিবার রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্্হাব মিঞার নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ এই সময় মঞ্জুর করেন।

সর্বশেষ গত ৩ ডিসেম্বর এ গেজেট জারির জন্য আপিল বিভাগ সরকারকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছিলেন। গতকাল অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আদালতকে বলেন, গেজেট জারির বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ প্রক্রিয়া শেষ করতে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সময় প্রয়োজন। এ অবস্থায় আদালত বুধবার পর্যন্ত সময় দেন।

এর আগে ১৬ নভেম্বর রাতে এ গেজেট জারির বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি অবদুল ওয়াহ্্হাব মিঞার বাসভবনে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে আপিল বিভাগের সব বিচারপতি ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হক উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে আইনমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, শৃঙ্খলাবিধির গেজেট জারির বিষয়ে আমরা ঐকমত্যে পৌঁছেছি। এখন এটা রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে। আশা করছি ৩ ডিসেম্বরের আগেই এ গেজেট জারি হবে।

কিন্তু পরবর্তীকালে আইনমন্ত্রী গণমাধ্যমকে জানান, শৃঙ্খলাবিধি চূড়ান্ত করে তা অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর সেটি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে। রাষ্ট্রপতি অনুমোদন দেওয়ার পর আইন মন্ত্রণালয় থেকে গেজেট জারি করা হবে।

এ অবস্থায় গতকাল আবারও অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতের কাছে সময় চেয়ে আবেদন জানালে আপিল বিভাগ আগামী বুধবার পর্যন্ত সময় দেন।

১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর মাসদার হোসেন মামলায় (বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ) ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দেন আপিল বিভাগ। রায়ে অধস্তন আদালতের বিচারকদের জন্য পৃথক আচরণ ও শৃঙ্খলাবিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা ছিল। আপিল বিভাগের নির্দেশনার পর ২০১৫ সালের ৭ মে আইন মন্ত্রণালয় একটি খসড়া বিধি প্রস্তুত করে সুপ্রিমকোর্টে পাঠায়। কিন্তু গত বছর ২৮ আগস্ট আপিল বিভাগ খসড়ার বিষয়ে বলেন, শৃঙ্খলা বিধিমালাসংক্রান্ত সরকারের খসড়াটি ছিল ১৯৮৫ সালের সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার হুবহু অনুরূপ, যা মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পরিপন্থী।

এর পর সুপ্রিমকোর্ট একটি খসড়া বিধিমালা করে সেটির আলোকে গেজেট জারির জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। একই সঙ্গে ৬ নভেম্বর ২০১৬-এর মধ্যে খসড়া বিধিমালা প্রণয়ন করে প্রতিবেদন আকারে আদালতকে জানাতে আইন মন্ত্রণালয়কে বলা হয়। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ থেকে খসড়া বিধিমালা প্রকাশে দফায় দফায় সময় নেওয়া হচ্ছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে