রোহিঙ্গা ইস্যুতে ব্যয় বাড়ছে সরকারের

  আবু আলী

১১ ডিসেম্বর ২০১৭, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য ব্যয় বাড়ছে সরকারের। ইতোমধ্যে সরকারের ব্যয় হয়েছে ৬০ কোটি টাকা। অর্থ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে। রোহিঙ্গাদের জন্য নেওয়া বিভিন্ন প্রকল্পে এ পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। রোহিঙ্গা নাগরিকদের জন্য এ পর্যন্ত কী পরিমাণ ব্যয় হয়েছে, তা জানাতে অর্থ বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

অর্থ বিভাগ সূত্র জানায়, রোহিঙ্গাদের জন্য সবচেয়ে বেশি খরচ হয়েছে খাদ্য, স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন খাতে। এ তিন খাতে ব্যয়ের পরিমাণ ৪৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। তার পরই রয়েছে ভাসানচর প্রকল্প খাত। নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার ভাসানচরে এক লাখ রোহিঙ্গা পুনর্বাসনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে একটি সমন্বিত বৃহৎ প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় মাস্টারপ্ল্যানের মাধ্যমে দ্বীপটিতে ভাঙন প্রতিরোধব্যবস্থাসহ বেড়িবাঁধ নির্মাণ, বাসস্থান সুবিধা, সুপেয় পানি, পয়ঃব্যবস্থা, বিদ্যুৎ, পানি নিষ্কাশন, পুকুর খনন, স্কুল, মসজিদ, অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়ন, সাইক্লোনশেল্টার স্টেশন, দুইটি হেলিপ্যাড নির্মাণ করা হবে। ইতোমধ্যে ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের সাময়িক বসবাসের জন্য ১৩ হজার একর খাস জমি চিহ্নিত করে বসবাসের উপযোগী করা হয়েছে। এতে একটি হেলিপ্যাড, কিছু টয়লেট, চারটি শেড ও সীমিত পরিসরে ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। এসব কাজে সরকারের ব্যয় হয়েছে ১০ কোটি টাকা।

অন্যদিকে রোহিঙ্গাদের খাদ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ মৌলিক চাহিদা পূরণে ৭১টি প্রকল্প হাতে নেওয়ার প্রস্তাব করেছে দেশি-বিদেশি ৪২টি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও)। এ জন্য সরকারের কাছে অনুমতি চেয়ে আবেদনও করেছে এনজিওগুলো। প্রকল্প বাস্তবায়নে ৪২ এনজিওর পক্ষ থেকে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের কাছে অনুমতির জন্য আবেদন করা হয়েছে। ৭১ প্রকল্পে ২০০ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানা গেছে।

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তথ্যমতে, বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ, যা বাংলাদেশের জন্য একটি বাড়তি চাপ। শুধু নিরাপত্তার জন্যই নয়Ñ এসব রোহিঙ্গা নাগরিকের খাদ্য, চিকিৎসাসহ মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিত করা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করে জাতিসংঘ। এ ছাড়া কক্সবাজারের যে এলাকায় রোহিঙ্গাদের থাকার জন্য অস্থায়ী ক্যাম্প তৈরি করা হয়েছে, সেটাও ওই অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য একটা বড় ধরনের ঝুঁকি বলে মনে করে জাতিসংঘ। এসব ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের খরচ হয়েছে ৬০ কোটি টাকা।

এদিকে কক্সবাজারে স্থাপিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের শরণার্থীদের নিরাপত্তার জন্য ক্যাম্পের চারদিকে নিরাপত্তা প্রাচীর (কাঁটাতারের বেড়া) দেওয়া হবে। ক্যাম্পের ভেতরে অযাচিত কেউ যেন প্রবেশ করতে না পারে এবং ক্যাম্পের ভেতরে অবস্থানকারী কোনো শরণার্থী যেন বাইরে বের হতে না পারে, সে জন্য এমন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আর এ নিরাপত্তা প্রাচীর নির্মাণের জন্য ৩ কোটি ৯ লাখ টাকা অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে