সেই পুরনো চিত্র সেই প্রশ্নফাঁস

  নিজস্ব প্রতিবেদক

২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০১:২২ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রশ্নপত্র ফাঁসহীন একটি দিন যেতে না যেতেই গতকাল সোমবার ফের ফিরে এসেছে সেই পুরনো চিত্র। এদিন অনুষ্ঠিত জীববিজ্ঞানের প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারের নানা রকম প্রস্তুতি থাকার পরও এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস থামানো যাচ্ছে না। গতকাল ছিল জীববিজ্ঞান ও অর্থনীতি এ দুটি বিষয়ের পরীক্ষা। এর মধ্যে জীববিজ্ঞানের নৈর্ব্যত্তিক প্রশ্ন উত্তরপত্রসহ হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়ে পড়ে সকাল ৮টা ৫৭ মিনিটে। সকাল সোয়া ৯টার দিকে বোর্ডের দেওয়া অতিরিক্ত খাতায় (এক্সট্রা খাতা) লেখা এমসিকিউর সমাধান লেখাসহ প্রশ্নপত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ১১টি বিষয়ের প্রশ্নই ফাঁসের অভিযোগ পাওয়া গেল।

প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে কথা বলার জন্য ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তপন কুমারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এদিকে, নাটোরের লালপুর উপজেলায় গতকাল শিক্ষার্থীদের জন্য উত্তরপত্র তৈরির সময় এক শিক্ষককে আটক করা হয়েছে। লালপুর থানা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। আটক শিক্ষক মতিউর রহমান (৪৫) ওই স্কুলের কারিগরি শাখার ট্রেড ইনস্ট্রাকটর। লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নজরুল ইসলাম নকলে সহযোগিতার অভিযোগে মতিউর রহমানকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন। এ ছাড়া ঢাকার ধামরাইয়ের হার্ডিঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে বহিষ্কৃত দুই এসএসসি পরীক্ষার্থীকে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগে কেন্দ্রের বাইরে তারা মোবাইলে প্রশ্ন দেখছিল।

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে বেশ কয়েকটি নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরীক্ষা শুরুর আগেই পালনের জন্য। তবে সেসবের একটিও এ পর্যন্ত সঠিকভাবে মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। ১১ ফেব্রুয়ারি এক নির্দেশনায় বলা হয়, পরীক্ষাকেন্দ্রের ভিতরে এবং কেন্দ্রের ২০০ মিটারের মধ্যে মোবাইল ফোনসহ কাউকে পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে গ্রেপ্তার করতে হবে। পরীক্ষা শুরুর সাত দিন আগে থেকে কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখতে হবে।

কিন্তু পরীক্ষা শুরুর আগে রাজধানীর কয়েকটি পরীক্ষাকেন্দ্রের সামনে গিয়ে দেখা গেছে নিয়মভঙ্গের চিত্র। রাজধানীর লালমাটিয়া উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, মোহাম্মদপুর সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, মোহাম্মদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, ধানম-ি গভর্নমেন্ট বয়েজ স্কুল এবং আজিমপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে গিয়ে দেখা যায়, অনেক অভিভাবক ও পরীক্ষার্থীর হাতে মোবাইল ফোন। কেন্দ্রের আশপাশে নিরাপত্তার দায়িত্বে কোনো পুলিশ সদস্যকে দেখা যায়নি। কেবল তিনজন করে কনস্টেবলকে কেন্দ্রগুলোর মূল ফটকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। পরীক্ষার্থীদের কাছে কোনো মোবাইল ফোন অথবা ইলেকট্রনিক ডিভাইস আছে কিনা তাও চেক করা হচ্ছিল না।

আজিমপুর সরকারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ হাসিবুর রহমান বলেন, আমাদের তো নির্দেশনা আছে সাড়ে ৯টার মধ্যে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। আমরা সেভাবেই করছি। কিন্তু দুয়েকজন অনেক দূর থেকে এলে ওদের তো ফিরিয়ে দিতে পারি না। ফিরিয়ে দিলেও তো সমস্যা রয়েছে। কী করার আছে বলুন? তারপরও গেটে পুলিশকে বলা আছে, যারা দেরি করে প্রবেশ করবে, তাদের ভালো করে চেক করতে। পরীক্ষার কক্ষেও তাদের ওপর নজর রাখার জন্য কর্তব্যরত শিক্ষককে বলা হচ্ছে।

এ ছাড়া কোচিং সেন্টারের আধিক্য আছে এমন এলাকাগুলোর মধ্যে অন্যতম রাজধানীর ফার্মগেট, আজিমপুর ও মোহাম্মদপুরে ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় সব একাডেমিক কোচিং সেন্টারই খোলা রেখেছে কর্তৃপক্ষ। খোলা রয়েছে ই-হক, ম্যাবস, ডিভাইন সায়েন্স একাডেমি, সমীকরণ কোচিং সেন্টার, সজীব একাডেমিক অ্যান্ড অ্যাডমিশন কেয়ার, মেধা বিকাশ কোচিং সেন্টার, প্রত্যাশা কোচিং সেন্টারসহ আরও অনেক কোচিং সেন্টার।

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশের বিষয়টি তুলে ধরলে সজীব একাডেমিক অ্যান্ড অ্যাডমিশন কেয়ারের কর্ণধার ও পরিচালক এস কে সাহা সজীব বলেন, কিছুদিন পরই এইচএসসি পরীক্ষা। এক মাস যদি আমরা কোচিং বন্ধ রাখি তা হলে ওই পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা খারাপ হবে। তা ছাড়া আমরা তো এসএসসি পরীক্ষার্থীদের এখন পড়াচ্ছি না।

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে