ইয়াবা সেবনের প্রতিবাদ করায় তুহিনকে হত্যা

  হাটহাজারী প্রতিনিধি

১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১:৩৪ | প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে নিহত স্কুলছাত্রী তাসনিম সুলতানা তুহিনের (১৩) সঙ্গে বখাটে যুবক শাহনেওয়াজ সিরাজ মুন্নার ১০ মাস ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মুন্না ছিল ইয়াবাসেবী। এ নিয়ে তুহিনের সঙ্গে মুন্নার প্রায়ই ঝগড়া হতো। গত ১৪ সেপ্টেম্বর একই ধরনের ঝগড়ার এক পর্যায়ে মুন্না তুহিনকে গলা টিপে ধরে হত্যা করে। এরপর তিনদিন সোফার নিচে লাশ লুকিয়ে রাখে।

চট্টগ্রাম মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে এসব কথা বলেন মুন্না। তার বাবা শাহজাহান সিরাজের বাড়ি একই উপজেলার গরদোয়ারায়। তিনি হাটহাজারী মিরের হাটের একজন পল্লী চিকিৎসক। মুন্না ছাড়াও তার আরও দুটি মেয়ে আছে।

এসএসসি পাস না হওয়া মুন্না নিজেকে হাটহাজারী এলাকায় ছাত্রলীগের একাংশের নেতা দাবি করলেও তার কোনো পদ নেই। প্রায় এক বছর আগে উপজেলা সদরের ফটিকা শাহজালালপাড়ায় সালাম ম্যানশনের চতুর্থ তলায় ভাড়াটিয়া হিসেবে আসেন শাহজাহান সিরাজ। ওই বাড়ির মালিক আবু তৈয়বের মেয়ে তাসনিম সুলতানা তুহিন। তারা থাকতো ওই বাসার দ্বিতীয় তলায়।

জবানবন্দিতে মুন্না আরও জানান, অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী তুহিনের সঙ্গে তার ১০ মাসের প্রেমের সম্পর্ক। ক্রমে তা দৈহিক সম্পর্কে গড়ায়। গত ১৩ সেপ্টেম্বর মুন্নার পরিবারের সবাই মিরের হাটে দাদার বাড়ি বেড়াতে যায়। পরদিন দুপুরে মুন্না কৌশলে সবার আগে ভাড়া বাসায় ফিরে আসে। এরপর বন্ধুদের নিয়ে ইয়াবা সেবন করে। বন্ধুরা চলে গেলে সন্ধ্যা হওয়ার আগে সেখানে আসে তাসনিম সুলতানা তুহিন। ইয়াবা সেবন করায় সে মুন্নাকে ভৎর্সনা করে। তখন মুন্না তাকে শান্ত করে। পরে তারা মেলামেশাও করে। কিন্তু এরপর তুহিন আবারও বিষয়টি তুলে ঝগড়া করে। এক পর্যায়ে উত্তেজিত মুন্না বাম হাতে তুহিনের গলা টিপে ধরে। আর ডান হাতে নাক-মুখ চেপে ধরে। কিছুক্ষণ পরই তুহিন মারা যায়। এরপর তুহিনের লাশ সোফার নিচে লুকিয়ে রাখে। এ ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মুন্নার বাবাসহ অন্যরা বাসায় ফিরে আসে।

তুহিনের বাবা আবু তৈয়ব ও মা ফিরোজা বেগম বর্তমানে হজ পালন উপলক্ষে সৌদি আরব অবস্থান করছেন। তুহিনকে পাওয়া না গেলে তার ভাই আকিব জাবেদ হাটহাজারী থানায় জিডি করেন। তিনি সেখানে শাহনেওয়াজ সিরাজ মুন্নার প্রতি সন্দেহ প্রকাশ করেন। পুলিশ তাকে থানায় ডেকে নিয়ে প্রাথমিক কথাবার্তা বলে ছেড়ে দেয়। কিন্তু ১৬ সেপ্টেম্বর মুন্নাকে পুলিশ আবারও থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তখন মুন্না পুরো ঘটনা স্বীকার করে। এরপর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোফার নিচ থেকে তুহিনের মরদেহ উদ্ধার করে। ততক্ষণে মরদেহ থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল।

হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর আমাদের সময়কে বলেন, মুন্নাকে আটক করে লাশ উদ্ধার করা হলেও ঘটনা বুঝতে পেরে আগেই সটকে পড়েন তার বাবা শাহজাহান সিরাজ ও মা। তাদের আটকের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ৬ বছর ধরে লেখাপড়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকা সত্ত্বেও শাহনেওয়াজ সিরাজ মুন্না হাটহাজারী উপজেলা এলাকায় নিজেকে ছাত্রলীগের নেতা বলে পরিচয় দিত। তার অত্যাচারে এলাকাবাসী ছিল অতিষ্ঠ। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ইউনুস গনির অনুসারী হিসেবে পরিচিত মুন্না এলাকায় ইয়াবা সেবন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিল। তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি, মুন্না সংগঠনের সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত ছিল না। নিজের প্রভাব প্রতিপত্তি খাটাতে সরকারি দলের নাম ব্যবহার করত। এতে কাজও হতো।

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে